

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা ও খেলাধুলা সামগ্রী উপহার দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বি আর টি।
গতকাল ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে জগন্নাথপুর বাজারস্থ আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয় মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত স্বপ্নজয়ী পাঠশালায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বি আর টি সংগঠনের পরিচালক নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বপ্নজয়ী পাঠশালার প্রধান শিক্ষক সোনিয়া বেগম। তিনি বলেন, দেশে এক শ্রেণীর ছিন্নমূল ও দরিদ্র শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিশু অল্প বয়সেই পড়ালেখা বাদ দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নানা কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, যা অনেক সময় অভিভাবকদের অসচেতনতার ফল। স্বপ্নজয়ী পাঠশালার লক্ষ্য হলো এসব শিশুকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে দেওয়া।
তিনি আরও জানান, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে।
জগন্নাথপুরে দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে স্বপ্নজয়ী পাঠশালা। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা দিয়ে ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে না পারা শিশুদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে আশার ঠিকানা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বি আর টি সংগঠনের পরিচালক নজরুল ইসলামসহ ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বেলাল, শাহজাহান মিয়া, ওয়াহিদ খান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলিফ মিয়া ও আব্দুল হেকিম, সাংবাদিক আমিনুর রহমান জিলু।
আরও উপস্থিত ছিলেন সামাজিক সংগঠন স্টুডেন্ট কেয়ারের সভাপতি মাওলানা হুমায়ূন কবির, প্রবাসী সদস্য জুয়েল আহমদ, সহসভাপতি আমিনুর রহমান হিমেল, প্রচার সম্পাদক আশিকুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক সাহেদ চৌধুরী, সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউজ্জামান সানিসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
শেষে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের সহযোগিতায় স্বপ্নজয়ী পাঠশালার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং আরও বেশি শিশু শিক্ষার সুযোগ পাবে।
এলাকাবাসীর মতে, স্বপ্নজয়ী পাঠশালার মতো মানবিক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুরা সমাজের মূলধারায় ফিরতে পারবে। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং অসহায় শিশুদের জন্য নতুন জীবনের সূচনা।
আপনার মতামত লিখুন :